

আমতলী(বরগুনা)থেকে আবু সাইদ খোকন ঃ উপকূলীয় বরগুনার আমতলী উপজেলায় এবছর রোপা আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ায়, সময়মতো বৃষ্টিপাত, মানসম্মত জাতের ব্যবহার এবং কৃষি বিভাগের নিবিড় তত্ত্বাবধায়নে এ সফলতা এসেছে বলে জানিয়েছেন
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা। দীর্ঘদিনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ, উৎপাদন ব্যয়ের চাপও বাজার অনিশ্চয়তার মাঝে এমন ফলন কৃষকদের মুখে এনেছে স্বস্তির হাসি।জানা গেছে,চলতি মৌসুমে রোপা আমনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমি।কিন্তু লক্ষ্য ছাড়িয়ে কৃষকেরা আবাদ করেছেন ২৪ হাজার হেক্টর জমিতে। কৃষি বিভাগ। ব্রি-২৩, ব্রি-৫২, ব্রি-৭৬, ব্রি-৮৭সহ বিভিন্ন উন্নত জাতের ধান ও স্থানীয় জাতের ফলনও আশাব্যঞ্জক।সরেজমিনে আমতলী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখাগেছে,যেসবধান কাটার উপযোগী হয়েছে,
কৃষকেরা ব্যাপক হারে হারভেস্টার ব্যবহার করছেন।এতে দ্রুতধান কাটা, ঝাড়া ও সংগ্রহ সম্ভব হওয়ায় ব্যয়ও কমছে।
আমতলী উপজেলার সদর ইউনিয়নের কৃষক মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, সাত বিঘা জমিতে ধান করেছি। ফলন এবার সত্যিই ভালো। নতুন ধান বাজারে উঠেছে ৯৫০ থেকে ১০০০ টাকা মণ দরে। দাম ঠিক থাকলে লাভ হবে নিশ্চিত। কুকুয়া ইউনিয়নের কৃষক সজিব মিয়া জানান, ৪ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি। ফলন ভাল হয়েছে । ধানের দাম ভালো,
এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো.রাসেল বলেন মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ,আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহ,রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে সচেতনতাএবং বীজ ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনার ফলেই এবার বাম্পার ফলন হয়েছে।লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি উৎপাদন হবে বলে আমরা আশাবাদী।সব মিলিয়ে,আমতলীতে আমন ধানের বাম্পার ফলন কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন
করেছে। কৃষকের গোলা ভরার সঙ্গে সঙ্গে উপজেলায় ফিরে এসেছে সোনালি স্বপ্ন, অর্থনীতিতে প্রাণচাঞ্চল্য, আর মানুষের মুখে সন্তুষ্টির হাসি।