

আল আমীন, নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধিঃ
হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে বিধবা আবেদা খাতুন বলেন, “ছবি তুইলা কি অইবো? বৃষ্টি আইলেই তো ঘরের মধ্যে পানি পড়ে! কত কষ্ট কইরা থাকতাছি, আমার কষ্ট দেখার তো কেউ নাই”।
শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার নালিতাবাড়ী ইউনিয়নের জয়নুদ্দিনপাড়া গ্রামের বিধবা আবেদা খাতুন। আক্ষেপ আর অশ্রুভেজা চোখে একটি মাথা গুজার ঠাই ভিক্ষা হিসাবে চেয়ে তিনি বলেন, ‘একটা ঘর পাইলে শেষ বয়সে কয়ডা দিন শান্তিতে থাইকা মরতাম’।
সূত্রে জানা গেছে, চার মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে বিধবা আবেদা খাতুনের সংসার। ছেলে-মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন। স্ত্রী ও ৪ সন্তান নিয়ে আবেদার একমাত্র ছেলের সংসারও চলছে সংকটের উপর। মাটি কাটার কাজ করে ছেলের আয় থেকে মা’কে ভাত খরচ দিলেও সামর্থ্য নেই ঘর করে দেওয়ার। গত বুধবার আবেদার বাড়িতে সরেজমিনে গেলে দেখা যায় কম্বলে মোড়ানো ঝুপড়ি ঘর, যেখানে তার বসবাস। সামান্য বৃষ্টিতেই ঘরের ভিতর পানি পড়ে কাঁদা হয়ে যায়। বেশি বৃষ্টি হলে এই ঘরে থাকাই দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা জানান আবেদা খাতুন সত্যিই একজন অসহায় মানুষ। নতুন করে ঘর নির্মাণের সামর্থ্য নেই এই বৃদ্ধার। একটি ঘর পেলে তার দুঃখ কিছুটা হলেও লাঘব হতো।
আবেদার মতোই দুঃখে কষ্টে দিন কাটছে একই ইউনিয়নের পূর্ব গেরাপচা গ্রামের শয্যায় পড়ে থাকা শহর ভানুর। বুধবার শহর ভানুর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় ছোট্ট একটা কুঁড়েঘরে শুয়ে আছেন তিনি। অতি ক্ষুদ্র এই ঘরের টিন জং ধরে ভাঙতে ভাঙতে আর যেন ভাঙ্গার জায়গা নেই। তার চাহনিতে যেন একটি ঘরের দাবি।
সূত্র জানায়, শহর ভানুর ২ ছেলে দুই মেয়ের মধ্যে এক ছেলে বাজারে বাজারে ভিক্ষা করে অপর ছেলে করে দিনমজুরের কাজ। মেয়ে দুটির বিয়ে হয়ে গেছে। দিনমজুর ছেলের নুন আনতেই পান্তা ফুরায়, ঘর করার টাকা পাবে কোথায়? নতুন করে ঘর করার মতো বিন্দুমাত্র সামর্থ্য নেই এপরিবারের। এই অসহায়দের জন্য একটি ঘরের দাবি স্থানীয় এলাকাবাসীর।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) ফারজানা আক্তার ববি বলেন, অসহায় এই দুই পরিবারের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।